spot_img

সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষক সংকট, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

এসম্পর্কিত আরো পড়ুন

রাতুল সাহা, বুটেক্স: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যায়ের (বুটেক্স) অধীনে ১১টি সরকারি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলো বহুদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট বিদ্যমান।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের টিচিং লোড ক্যালকুলেশন নীতিমালা (প্রকৌশল)-২০২২ অনুযায়ী প্রতিটি কলেজে ৭০টি শিক্ষক পদ এবং ৯টি কলেজে মোট ৬৩০টি শিক্ষক পদ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষক পদের সংখ্যা রয়েছে ২৭১টি এবং পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৮১ জন। যা থেকে দেখা যায় শিক্ষক পদ এবং কর্মরত শিক্ষক উভয়ই প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। জামালপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পদের বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক মাত্র ৩ জন।

- বিজ্ঞাপন -

এত কম সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে কীভাবে মান সম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব, বস্ত্র উপদেষ্টার কাছে এমনই প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।

বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা শিক্ষক সংকট, যা শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। একাধিক ক্যাম্পাসে ক্লাস নেওয়ার ফলে তারা একটি কোর্স মাত্র ৪-৫ দিনের মধ্যে শেষ করে দেন। ফলস্বরূপ, শুধুমাত্র সার্টিফিকেটধারী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সংকটের জন্য বস্ত্র অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধি-২০১৪ নিয়ে অভিযোগ করেন। তাদের মতে, নতুন কলেজগুলোর অর্গানোগ্রামে বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষক পদ থাকলেও নিয়োগ বিধি-২০১৪ তে রয়েছে কারিগরি শিক্ষক পদ। যার ফলে নতুন কলেজগুলোতে পদ থাকলেও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পুরাতন কলেজ গুলো থেকে সংযুক্তিতে শিক্ষক নিয়ে চলতে হচ্ছে নতুন কলেজগুলোকে। এতে করে সংকট আরো তীব্র  হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া নিয়োগ বিধি-২০১৪ এ অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের অভিজ্ঞতায় দেখা যায় বড় রকমের অসামঞ্জস্যতা। তাই শিক্ষার্থীরা কলেজ সমূহের জন্য স্বতন্ত্র নিয়োগ বিধি ও সকল কলেজের জন্য অভিন্ন অর্গানগ্রামের দাবি জানায়।

যথেষ্ট শিক্ষক না থাকার শর্তেও কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিল না করার কারণ সম্পর্কে কলেজ ইন্সপেক্টরের দায়িত্বে থাকা বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অধিভুক্তি প্রদান করে শিক্ষার্থী ভর্তি করার পর অধিভুক্তি বাতিল করা কঠিন হয়ে যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে আইগতভাবে অধিভুক্তি বাতিল করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, কলেজ গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিষয়ে কোনো ভূমিকা নেই।

বর্তমানে কলেজ গুলোর পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মোঃ সামিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় হতে মন্ত্রণালয়ে অনেকবার শিক্ষক সংকটের বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আব্দুর রউফের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বস্ত্র অধিদপ্তরের ডিজির সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।

বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা অধিদপ্তর হয়েছি ২০১৭ সালে। অধিদপ্তর হওয়ার পরে নিয়োগ বিধি হয়নি। তবে এ বছর আমরা একটি নিয়োগ বিধির খসড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে পাঠিয়েছি। তাছাড়া আমাদের শিক্ষক নিয়োগ দেয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)। আমরা তাদের কাছে রিকুইজিশন দিলে তারা পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেয়। তবে আমাদের যে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে তা আমরা স্বীকার করছি এবং তা সমাধানের চেষ্টা করছি। নিয়োগ বিধি যদি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয় তাহলে আমাদের এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

৫ আগস্ট, গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা বারবার শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে এবং গত বছরের সেপ্টেম্বর হতেই শিক্ষক সংকট, অপর্যাপ্ত বাজেট, জবাবদিহিতার অভাব সহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করে আসছে সরকারি টেক্সাটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫ দফা দাবি জানানো হয়। যেগুলো হলো দ্রুততম সময়ে কলেজের শিক্ষক সংকট সমাধান, নিয়োগবিধি- ২০১৪ স্থগিত করে কলেজের জন্য অবিলম্বে স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি পাশ, কলেজের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দ্বারা বস্ত্র অধিদপ্তরে বস্ত্রশিক্ষা অনুবিভগ গঠন, কলেজ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ছাড়া উচ্চপদে পদোন্নতি না দেওয়া, সকল কলেজের জন্য একটি সাধারণ অর্গানোগ্রাম এবং দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা, সচিব ও বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে যায় শিক্ষার্থীরা। সেখানে ৫ দফা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান ও ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও শিক্ষক সংকট বিষয়ে উদাসিনতা সংশ্লিষ্ট অনেকের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করছে।

এসআই/

spot_img
spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ প্রকাশিত

spot_img